ক্লাস্টার ফিডিং- যেকথা প্রায় কেউ ই জানেনা!

ক্লাস্টার ফিডিং এর জন্য গুগল এ ছবি ঘেটে কোন বিদ্ধস্ত মায়ের ছবি পেলাম না। ছবির মায়ের কান্নাকান্না চেহারা দেখে এই ছবিটা নিলাম, আজকের টপিক এর সাথে কিছুটা রিলেভেন্ট বলে। ক্লাস্টার ফিড করাচ্ছে এমন মায়ের চুল হবে কারেন্ট এর শক লাগলে যেমন চুল দাড়ায়ে থাকে, ওরকম আর কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে, এরকম। এই জিনিস যার সাথে হয়নাই, তার নিজের বাদে আর কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব না, কি অমানুষিক কষ্ট আর জিনি জানেন না, তার জন্য কত টেনশন এর ব্যপার।

বিকাল ৩টা/৪টা থেকে রাত ৯.৩০টা পর্যন্ত টানা ব্রেস্ট ফিডিং যে কি পরিমান এনার্জি ড্রেইনিং, সেটা লিখে বুঝানোর মত ক্ষমতা আমার নাই।

যদি আপনার বাবু অল্প সময়ের মধ্যে ঘন ঘন ব্রেস্টফিড করতে চায়। ফিডিং এর পর ও স্যটিস্ফাইড না হয়ে ইরিটেটেড হয়ে কান্না করা/ অস্থির হয়ে যেতে থাকে এবং ৪-৫ ঘন্টা পর্যন্ত এই অবস্থায় থাকে, এরকম ফিডিং কে ক্লাস্টার ফিডিং বলা যেতে পারে। এরকম অবস্থায় বাবুর মা নিজেই চিন্তায় পড়ে যান, মিল্ক-সাপ্লাই ঠিক মত হচ্ছে কিনা, বাবুর কোনো রকম অসুস্থতা বা সমস্যা হচ্ছে কিনা। ঘাবড়ে যাবার মতো এটি কোনো বিষয় তো না ই বরঞ্চ, এটা খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা।

কেন বাবু ক্লাস্টার ফিডিং করে?
প্রথম ৩-৬ সপ্তাহের বাবুদের মাঝে (আমার জন ৫ দিন বয়সেও করসিল) ক্লাস্টার ফিডিং এর প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। ঘন ঘন খাবার ইচ্ছা প্রকাশ করা খুবই পজিটিভ সাইন। বেশীরভাগ সময় বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে বাবু ক্লাস্টার ফিড করতে পারে, এর একটা কারণ হতে পারে যে একটা লম্বা ঘুমের জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত করছে।তবে মূল কারণটা হচ্ছে, ৬ মাসের মধ্যে নিউবর্ন বাবুরা অনেকগুলো ডেভেলাপমেন্ট মাইলস্টোন অতিক্রম করে। তার নিজের গ্রোথের প্রয়োজনেই সে একটু একটু পর খাওয়ার ইচ্ছা পোষন করে কান্না করা, ব্রেস্টের আশেপাশে মুখ নিয়ে যাওয়া, ঠোট গোল করে ফেলা বা অস্থিরতা প্রকাশ করবে। ঘন ঘন খেতে চাওয়ার মানে এটা না যে সে যথেষ্ট দুধ পাচ্ছেনা, বা যিনি ব্রেস্টফিড করাচ্ছেন তার নার্সিং এ কোনো সমস্যা। উল্টো ঘন ঘন ব্রেস্ট ফিড করালে মিল্ক-সাপ্লাই বেড়ে যাবার কথা।
এ সময়ে করণীয়
লম্বা সময় ধরে বাবুকে ব্রেস্টফিড করানো একজন মাকে ক্লান্ত করে ফেলতে পারে। এজন্য প্রথমে নিজে রিলাক্স থেকে বাবুকে ফিড করাতে পারেন। এসময় বই পড়তে পারেন বা গান শুনতে পারেন। কিছু সময় পরপর পজিশন বদলাতে পারেন। বাবুকে ৩০ ডিগ্রি পজিশন এ শুইয়ে নিজেও শুয়ে খাওয়াতে পারেন কিছু সময়। সবচেয়ে বড় কথা টেনশন বাদ দিয়ে রিল্যাক্স থেকে ফিডিং এনশিওর করা।
-কেয়ারগিভাররা ব্রেস্টফিড করানো মায়ের কাছে পানি, খাবার দাবার দিতে পারেন।যাতে লম্বা সময় নার্সিং এ মায়ের অসুবিধা না হয়।
  • বাবু অতিরিক্ত কান্না করলে ,অস্থির হয়ে থাকলে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। নার্সিং এর সময় ঘুমপাড়ানি গান,হালকা দুলুনি, নিভু নিভু আলো, আরামদায়ক রুম টেম্পারেচার বাচ্চাকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
  • দুশ্চিন্তায় পড়ে ফর্মূলা মিল্ক না দিয়ে ব্রেস্ট মিল্ক পাম্প করে সেটাই ফিডারে দিতে পারেন। তবে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং বাবুর জন্য বেশী ভালো।
  • প্রতি মাসে বাবুর উচ্চতা এবং ওজন মেপে খেয়াল রাখুন তার বয়স অনুযায়ী ওজন এবং উচ্চতা ঠিক আছে কিনা। ডাক্তার রা বলেন ৬ মাসে জন্মের সময়ের ওজন এর ডাবল হলেই ওজন ঠিক মত বাড়ছে। চিন্তার কোন কারণ নেই। দৈনিক ৬বার প্রসাব করলেই বুঝা যাবে বাচ্চা ঠিক মত দুধ পাচ্ছে।
আজ তাহলে এটুকুই। কারো কোন প্রশ্ন বা সাজেশন অবশ্যই কমেন্ট এ জানাবেন। আপনার কোন বন্ধুর যদি নিউবর্ন থাকে বা আসবে, তাদের ট্যাগ করতে পারেন, উপকার হবে তাঁদের।

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

হবু মায়ের হসপিটাল ব্যাগ চেকলিস্ট

প্রেগন্যান্সির ৩৫-৪০ সপ্তাহ খুবই অনিশ্চয়তায় ভরা একটা সময়। কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় এক্সপেক্টিং ডিউ ডেট পার হয়ে যাবার পর বাবুর ডেলিভারি হয়েছে (আমার যেমন ৪১ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল), কারো ক্ষেত্রে ৩৬/৩৭ সপ্তাহেই বেবিকে পেয়ে গেছেন। আমি বলব ৩৫ সপ্তাহ থেকেই ডেলিভারির জন্য মানসিক এবং শারীরিক প্রস্তুতি নেয়া শুরু করা দরকার, কারণ বাবু যেকোন সময় পৃথিবীতে চলে আসতে পারে।
বাবুর জন্য কাপড়চোপড় ও জরুরি জিনিস কেনা, ব্লাড ডোনার খুঁজে রাখা,হাসপাতাল ঠিক করে নেয়া এসব কিছুর সাথে হাসপাতালের ব্যাগ টা গোছাতে ভুলবেন না। মনে হতে পারে যাওয়ার আগে ব্যাগ গুছিয়ে নিলেই চলবে, তবে হুট করে ব্যাথা উঠলে তাড়াহুড়ো করে আসলে জরুরি অনেক জিনিস বাদ পড়ে যেতে পারে।আর একবার হসপিটালে গেলে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা বাবু এবং মা দুজনের ই থাকতে হতে পারে, সি-সেকশন হলে ২-৪ দিন (অনেক ক্ষেত্রে আরো বেশি)।
তো আজকের পোস্ট এ চেষ্টা করেছি হাসপাতালের ব্যাগে যা যা লাগতে পারে সব একটি চেকলিস্ট আকারে লিখতে। যাতে ব্যাগ গোছানোর সময় দরকারি জিনিস লিস্ট দেখে নিতে পারেন, আর জরুরি কিছু বাদ না পড়ে।
মায়ের জন্য
  • সব রিপোর্ট একটা ফাইলে নিয়ে নিবেন।
  • স্যানিটারি ন্যাপকিন/ এডাল্ট ডায়াপার। 
  • নার্সিং ব্রা যদি সার্বক্ষনিক ব্রা পরার অভ্যাস থাকে।
  • ম্যাক্সি সামনে খোলা ৪-৫টা।
  • পেটিকোট।
  • চাদর/শাল/বড় নরম ওড়না।
  • স্যান্ডেল।
  • নিপল ক্রিম ( ঘন ঘন ব্রেস্টফিড করালে নিপল ক্র্যাক হবেই, এটা অবশ্যই সাথে রাখবেন) 
  • স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস (টুথব্রাশ, পেস্ট, ফেসওয়াশ , ময়শ্চারাইজার, টামি বাটার, ভ্যাসলিন) 
  • টাওয়াল।
  • ইলেকট্রিক কেটলি ।
  • চিরুনি, হেয়ার ব্যান্ড।
  • মোবাইল চার্জার।
  • মগ , প্লেট, ছোট ছুরি (ফল যদি খান), পাঁচ লিটার পানির গ্যালন।
  • এবডোমিনাল পোস্ট প্রেগন্যান্সি বেল্ট (এটা অনেক হাসপাতাল থেকেই দেয় আর কিনে হাসপাতালে নেয়ার দরকার নেই। বাসায় ফেরার পর কিনলেও হয়। অনেকে মনে করেন এই বেল্ট ব্যবহারে পেট কমে। এটা সম্পুর্ন ভুল ধারনা। সিজার হলে আমাদের পেটের মাসল তখন লুজ থাকে (মাসল এ কোন সেলাই দেয়া হয়না) তাই হার্নিয়া হবার সম্ভাবনা কমাতে এই বেল্ট পরতে বলা হয়)
বাবুর জন্য
  • বাবুকে জড়ানোর জন্য নরম কাথা
  • ইউরিন ম্যাট
  • বাবুর জন্য কয়েক সেট নরম সুতির জামা, ফুল লেংথ রম্পার বা ওয়ানজি,মোজা, কান টুপি যদি শীতকাল হয়।
  • বেবি ওয়াইপস ( ওয়াটার বেইজড টা প্রেফার করি আমি। স্যাভলনের টা ভাল। অনেক বেশি লাগবে এটা)
  • গিলবার্ট লিনিডার্ম ( ন্যাপি র্যাশ, বা বেবিকে পরিষ্কার করার সময় খুব কাজে দিবে) 
  • ডায়াপার অথবা ন্যাপী ( দুইটাই কাজে লাগে)
  • ফিডার (যদি ফর্মুলা আর ব্রেস্ট মিল্ক দুটোই দিতে চান)
  • ফর্মুলা মিল্ক ( যদি মিক্স ফিড করান)
বাবুর জন্য, মায়ের জন্য যে কাপড় ই নিবেন সাবান দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যাগে নিবেন, অনেকে স্যাভলন-ডেটল দিয়ে ধুয়ে নিতে চান, এতে বাচ্চার গায়ে র্যাশ হবার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে, বাবুকে কোনোভাবেই নতুন কেনা কাপড় পরানো বা গায়ে জড়ানো যাবেনা। ডেলিভারির জন্য যে হাসপাতাল বেছে নিবেন, সেখানে কি কি সুবিধা পাওয়া যায় জেনে নিবেন। কিছু হাসপাতালে বলতে গেলে তেমন কিছুই নেয়া লাগেনা। আর আমার দেয়া লিস্ট থেকে কিছু বাদ পড়লো কিনা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ❤

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

ছোটবাবুদের স্ক্যাল্প কেয়ার

নাভি শুকিয়ে পড়ে গেলে এরপর থেকে বাবুকে গোসল করাতে পারবেন। গোসলের আগে অলিভ অয়েল দিয়ে সারা গায়ে (স্ক্যাল্পসহ) ম্যাসাজ করে গোসল করাতে পারবেন। সফট ব্রিসল ব্রাশ দিয়ে তার চুল আলতো করে আচড়ে দিতে পারেন। খেয়াল করবেন যেন সরিষার তেল বাবুকে না দেয়া হয়। বাজারে যেসব সরিষার তেল থাকে সেগুলোতে রঙ এবং ক্যামিকেল মিশানো হয় যেটা বাচ্চার নরম স্কিনকে ইরিটেট করে ফেলতে পারে। এছাড়া সরিষার তেল খুব ভারী হয়, স্কিন ব্রিদ করতে পারেনা। সহজেই ফাংগাল ইনফেকশন হতে পারে। নিউবর্ন বাবুর গোসলের সময় খুব বেশি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবেনা। ২/৩ টা প্রোডাক্ট নিলেই চলবে।

 অলিভ অয়েল বা গিলবার্ট লিনিডার্ম গোসলের আগে এবং পরে ম্যসাজের জন্য।

বেবি ওয়াশ, যেটা পা থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যবহার করে গোসল করাবেন।

বাচ্চার প্রথম চুল কাটার সময় ব্লেড বা রেজর দিয়ে শেইভ না করে ট্রিমার দিয়ে ট্রিম করুন। ব্লেড বা রেজর দিয়ে শেইভ করলে স্কিন কেটে যাওয়ার রিস্ক তো থাকেই, তাছাড়া ইরিটেশন, র‍্যাশ এবং ফাংগাল ইনফেকশন হবার ও ভয় থাকে।

 আরেকটা গুরুতর ভুল হচ্ছে কয়েক বছরের বাচ্চাদের চুলে বড়দের শ্যাম্পু ইউজ করতে দেয়া। বড়দের শ্যাম্পুতে প্রচুর ইনগ্রেডিয়েন্টস থাকে যেটা বাচ্চাদের ডেলিকেট স্কিনের জন্য খুব ভালো অপশন না।যেমনঃ সালফেট, এটা স্ক্যাল্পের ন্যাচারাল অয়েল স্ট্রিপ অফ করে ফেলে। আপনার বাবুর স্ক্যাল্প এবং চুল যদি অনেক ড্রাই বা সেনসিটিভ থাকে তাহলে এখন থেকেই সবসময় সালফেট ফ্রি শ্যাম্পুগুলোতে অভ্যস্ত করাতে পারেন।

 JOHNSON’S® CottonTouch™ 2-In-1 Bath & Wash, 500 Ml

Johnson’s No More Tears Baby Shampoo, 500 Ml

Aveeno® Baby Daily Care Hair & Body Wash, 300 Ml

 

কখন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেয়া জরুরি? 

বাচ্চার স্কিনে যদি এলার্জিক রিয়েকশন হয় কোনো প্রোডাক্ট ইউজের পর তখন নিজেদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কোন ওষুধ ব্যবহার না করে ডার্মাটোলজিস্টের সাথে কথা বলে ব্যবহার করতে হবে।

ক্র্যাডেল ক্যাপ খুবই কমন স্ক্যাল্প ইস্যু।যদি মনে হয় বাচ্চার ক্র্যাডল ক্যাপ হয়েছে, তখন চিরুনি বা নখ দিয়ে খুটে মরা চামড়া তোলার চেষ্টা করা যাবেনা।অবশ্যই দেরি না করে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

https://asteriabd.com/online-consultation/

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

আমার বাচ্চা খায়নাঃ পর্ব-৩

নিজের হাতে খেতে শিখানো

১.৫-২ বছরের একটা বাচ্চা খেতে না চাইবার কিছু কারণ আছে, তার মধ্যে এক হল অতিরিক্ত জোরাজুরি তাকে খাবারের প্রতি ব্রীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে আরেকটা হল এই বয়সী বাচ্চারা সাবলম্বি হতে চায়। ভাবে অন্যরা নিজে নিজে খায়, আমিও নিজে খাবো। “নিজে নিজে খাইবো, আমি করি-আমি করি, নিজে করব” এগুলো এই বয়সী বাচ্চাদের কমন ডায়ালগ। এই সময় আপনি যদি সময় বাচাতে তাকে খাইয়ে দিতে চান, সে সেটা মানবে কেন?
৬ মাস বয়স থেকেই আমি আমার বাচ্চাকে ডাইনিং টেবিলের পাশে ফিডিং চেয়ারে বসিয়ে আমাদের সাথেই খেতে দিতাম। যাতে আমাদের খাওয়া দেখে দেখে ও খাওয়া শিখতে পারে।আমরা যে খাবার মুখের কাছে ধরতেসি সেটা দেখে দেখে ও নিজেও সেটা করার চেষ্টা করতো। অবশ্যই শুরুতে বাচ্চা খাবার নিজে ধরে মুখে খেয়ে ফেলবেনা। প্রথমে খাবার দেয়ার পর ৫-১০ মিনিট আমি ওকে নিজের মতো করে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে দিতাম।সে খেতে যেয়ে খাবার নিয়ে খেলা করতো , খাওয়ার চেষ্টাও করতো।এতে করে ধীরে ধীরে নিজের হাতে খাওয়ার অভ্যাস টা হয়েছে। ৫-১০মিনিট পর আমিই খাইয়ে দিতাম। তবে খেয়াল রাখবেন খাওয়াতে যেয়ে জোর করবেন না। তার চাওয়া অনুযায়ী খাওয়াতে যেয়ে অভুক্ত থাকবে এমন ভয় পাবার দরকার নাই, খিদা লাগলে চাহিদা হবেই।

খাবার খেতে গিয়ে চারপাশ নোংরা করলে

নিজ হাতে খাবার খেতে গেলে বাচ্চা চারপাশ নোংরা করবেই। এটা আশা করবেন না আপনার বাচ্চা এক দুমাসেই গুছিয়ে খাওয়া শিখে যাবে। আমার বাচ্চার বয়স প্রায় ১৯ মাস,সে এখন নিজ হাতে সব বেলার খাবার খায়। কিন্তু কিছু খাবার ফিডিং চেয়ারে পড়ে, কিছু চেয়ারের বাইরেও পড়ে যায়। আর খেতে যেয়ে জামা কাপড় নোংরা তো করেই।সেক্ষেত্রে আমি যেটা করি, বাচ্চাকে গরমের দিনে খালি গায়েই খেতে দেই। এতে খাবারের পর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিলেই হয়। শীতের সময় আমার একটা পুরোনো টিশার্ট পরিয়ে দিতাম, ওটাতেই যা খাবার মেখে যেতো।এরপর ধুয়ে নিতাম।খাবার নিচে পড়লে বারবার পরিষ্কার করাটা ঝামেলা।এজন্য ফিডিং চেয়ারের নিচে একটা পলিথিন বা কাগজ বিছিয়ে দেই। খাওয়া শেষে তুলে ফেলে দেই।

খাবার উগলিয়ে ফেলে দিলে

বাচ্চা খাবার না গিলে বমির মত ওয়াক করছে বা ফেলে দিচ্ছে এটা দেখে ভয়ে অনেকেই মাসের পর মাস লিকুইড, সেমি সলিড খাবার বাচ্চাকে দিতে থাকেন। এটা করার একেবারেই দরকার নেই। বরঞ্চ এভাবে উগলে ফেলে দেয়াটা বাচ্চার একটা স্বাভাবিক প্রটেকটিভ মেকানিজম। বাচ্চাকে যখন আস্তে আস্তে সলিড খাওয়াতে থাকবেন, অভ্যাস না থাকার কারণে ওর একটু আনকমফোর্টেবল লাগবে খেতে। দুয়েক দিন এভাবে উগলে ফেলার চেষ্টা করবে, ধীরে ধীরে শিখে গেলে আর এমন করবেনা। অনেক সময় বড় টুকরা মুখে গেলেও বাচ্চারা চেহারা লাল করে এমন করে, তাতে ভয় না পেলে খাবারটা বের করে আনলেই হবে।

শ্বাসনালীতে খাবার আটকে গেলে

কোভাবেই বাচ্চাকে আংগুরের সাইজের বা চিনাবাদাম সাইজের খাবার গোল করে দেয়া যাবেনা এতে চোকিং হবার রিস্ক অনেক বেশি। পপকর্ন ও ৫বছরের নিচের বাচ্চাদের দিতে নেই। চোকিং হয়ে গেলে এমন সিচুয়েশনে কি করবেন সেটার একটা ভিডিও লিংক দিয়ে দিচ্ছি। এটা আসলে বাচ্চার বাবা-মা, কেয়ার গিভার সবার জানা জরুরি যে চোকিং হলে কি করা দরকার।

কোনো খাবারে এলার্জি থাকলে

শুরুর দিকে একইসাথে অনেকগুলো খাবার না দেয়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে কোনো খাবারে এলার্জি আছে কিনা সেটা আইডেন্টিফাই করা। পরপর ৩ দিন শুধু আলু, এরপরের তিনদিন শুধু গাজর, এরপরের তিন দিন শুধু ওটস এভাবে করে একটা একটা খাবার এড করতাম আর খেয়াল করতাম এলার্জিক রিয়েকশন হচ্ছে কিনা। কোনো খাবারে এলার্জি হচ্ছে এমন টা বুঝতে পারলে অবশ্যই সাথে সাথে সেটা খাবারের রুটিন থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে।

আজকের মত এতটুকুই। পড়ে কেমন লাগল কমেন্ট এ জানাবেন আর কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন। ধন্যবাদ।

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

আমার বাচ্চা খায়নাঃ পর্ব-২

এই সিরিজের ১ম পর্বে , বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য কি কি প্রোডাক্ট দরকার হতে পারে সেটা নিয়ে লিখেছিলাম। কেউ যদি আগের পর্ব মিস করে থাকেন এই লিংকে যেয়ে পড়তে পারবেন- আমার বাচ্চা খায়নাঃ পর্ব ১

এই পর্বে পুরোটাই লিখেছি বাচ্চার খাবার নিয়ে। আপনারা যারা গত পর্ব পড়েছিলেন, আপনাদের অনেকের কিছু প্রশ্ন ছিলো। এবার সেগুলোর উত্তর দেয়ারও চেষ্টা করেছি। আগামী পর্বে আর কি কি বিষয় নিয়ে লিখব সেটাও জানাতে পারেন কমেন্টে।

প্রথম কথাঃ ১বছর পর্যন্ত বাচ্চার প্রধান খাদ্য মায়ের বুকের দুধ কিংবা ফর্মুলা। ১ বছর পর্যন্ত গরুর দুধ ও দেয়া যাবেনা। আর যেহেতু প্রধান খাদ্য দুধ, তাই বাচ্চা দিনে ২ খানা ডিম খেলোনা, ১ বাটি খিচুড়ি খেলোনা, এই নিয়ে আফসোস এর প্রয়োজন নেই। এই সময়টা বাচ্চা খাবার নিয়ে খেলবে আর নানান খাবারের স্বাদ চিনবে, সলিড দেয়ার উদ্দেশ্য মূলত এটাই।

কখন থেকে বাচ্চাকে বুকের দুধ/ ফর্মুলার পাশপাশি অন্য খাবার দিয়েছি?

বাচ্চার ওজন যদি ঠিকঠাক থাকে তবে ৬ মাস পর্যন্ত তার জন্য বুকের দুধ/ফর্মূলাই যথেষ্ট। তবে যেহেতু ৪ মাস বয়স থেকে বাচ্চার আয়রন স্টোরেজ ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাই আমি সাড়ে পাঁচ মাস থেকে খুব অল্প অল্প করে আয়রন রিচড খাবার দিয়েছি। যেমন: খেজুর,টমেটো, মিষ্টি আলু, বীটরুট, ওটস।

কিভাবে নতুন খাবার ইন্ট্রোডিউস করেছি?

ট্র্যাডিশনালি এদেশে প্রায় সবাই ই নতুন খাবার হিসেবে খিচুড়ি দিয়ে শুরু করেন। খিচুড়িতে মাল্টি-গ্রেইন্স থাকে, হুট করে এতো জটিল খাবার বাচ্চার শরীর হজম করতে পারবেনা। এতোদিন আপনার বাচ্চা শুধুই দুধ খেত।তার জন্য দুধের গন্ধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার যেমন পরিচিত না, তার পাকস্থলিও একইসাথে অনেক রকমে নিউট্রিয়েন্স হজম করে অভ্যস্ত না। এক্ষেত্রে আমি যেটা করেছি-
যেকোন একরকমের গ্রেইন, যেমনঃ চালের গুড়ো। চালের গুড়ো বাসায় বানিয়ে সিদ্ধ করে বুকের দুধ/ফর্মূলার সাথে মিশিয়ে পেস্টের মতো করে শুরুর দিকে দিতাম। এমনি করে সিদ্ধ মিষ্টি কুমড়ো, মিষ্টি আলু, ওটস এগুলো একটা একটা করে দুধের সাথে মিশিয়ে দিয়ে দিয়ে ইন্ট্রোডিউস করিয়েছি। এতে হয়েছে কি আমার বাচ্চার জন্য নতুন খাবার খেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। দুধের ফ্লেভার ওর পরিচিত ছিলো, আর যেকোন একটি নতুন খাবার খাওয়া শিখতেও তার সমস্যা হয়নি। প্রতিটা খাবার পরপর তিনদিন দিয়েছি কোন খাবারে এলার্জি আছে কিনা, সেটা বের করতে।

বাচ্চার মিল প্ল্যানিং

এখন আসি কীভাবে বাচ্চার মিল প্ল্যান করা যায় সেটা নিয়ে। কি কি খাবার দেয়া যেতে পারে, কীভাবে দেয়া যেতে পারে, এবং ডিউরেশন টা লিখে দেয়ার চেষ্টা করব। আমি মূলত দুইটা পদ্ধতি মিক্স করে বাচ্চার মিল প্ল্যান করতাম-

১) কনভেনশনাল পিউরে সিস্টেম

এই সিস্টেমেই শুরুতে বাচ্চাকে খাবার দেয়া ভালো। যেকোন খাবার সিদ্ধ করে , ম্যাশড করে সেমি লিকুইড বা লিকুইড করে দিলে বাচ্চার জন্য খেতে সুবিধা হবে। আগে যেটা বলছিলাম, সবজি সিদ্ধ করে দুধের সাথে দেয়া। এটা ছাড়াও ঘরে বানানো দই খেতে দিয়েছি। একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে কিছুতে চিনি বা লবণ দেয়া যাবেনা। দইয়ের ক্ষেত্রেও টক দইটাই দিতাম, মাঝে মাঝে একটু খেজুর মিক্স করে দিতাম।নতুন একটা স্টাডিতে পড়েছি, ৬ মাসের বাচ্চাকেও পুরো ডিম (সাদা এবং কুসুম সহ) দেয়া যাবে। আমার বাচ্চাকে সাধারণত পোচ করে, স্ক্র্যাম্বল করে ডিম দিয়েছি। খেয়াল রেখেছি যাতে কুসুম শক্ত থাকে। সিদ্ধ ডিম খুব কম দিয়েছি কারণ সিদ্ধ কুসুম অনেক ড্রাই থাকে,গলায় আটকানোর সম্ভাবনা থাকে। রোলড ওটস বাচ্চার জন্য বেশ ভাল, আয়রন রিচ ফুড।

*অনেকে গরুর দুধ দেয়া যাবেনা ভেবে দই ও দেয়া যাবেনা ভাবেন। জানতে হবে, গরুর দুধের প্রোটিন বাচ্চা হজম করতে পারেনা কিন্তু দই তে সেটা ভেংগে স্বাস্থ্যকর ল্যাকটিক এসিড তৈরী হয় তাই গরুর দুধ আর দুধের তৈরী দই আদতে এক নয় এবং দইটা চিনি ছাড়া হলে বরং বাচ্চার জন্য ভাল। দইতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যেটা বাচ্চার হজমশক্তিতে সহায়ক।

২) বেবি-লেড উইনিং

বাচ্চাকে স্পুন ফিড, সেমি সলিড/পিউরে ফিডিং এর সম্পূর্ণ বিপরীত একটা পদ্ধতি বেবি লেড উইনিং। এই পদ্ধতিতে আপনাকে বাচ্চার পেছনে চামচ নিয়ে দৌড়ানোও লাগবেনা। আপনার বাচ্চা নিজে হাতে নিয়ে সলিড খাবার যাতে খাওয়া শিখতে পারে এটার জন্য বেবি লেড উইনিং পদ্ধতিটা বেশ কাজের। বাচ্চাকে পিউরে করে প্রথম কয়েক সপ্তাহ খাওয়ানোর পর ধীরে ধীরে পানি কম দিয়ে দিয়ে সলিড খাবারে অভ্যাস করানো শুরু করেছি। বেবি লেড উইনিং পদ্ধতি অনুযায়ী খাবার সেটা সবজি বা ফ্রু্টস যাই হোক সিদ্ধ করে আঙ্গুলের সাইজে কেটে নিতাম যাতে বাচ্চা ধরে ধরে খেতে পারে।
যেমনঃ কলা, আম, সিদ্ধ আলু, গাজর, ফুলকপি, মুরগির মাংস এগুলো ফিংগার সাইজের করে দিতাম। আলাদা করে বাচ্চার জন্য কিছুই তেমন রান্না করা হয়নাই। আমরা নিজেরা যেটা খাই, সেটাই তুলে নিয়ে খাবার পানিতে আধা ঘন্টা ভিজিয়ে তুলে দিতাম। এতে করে মসলা, তেল, লবন ধুয়ে যেত।তবে গরুর মাংস খুব একটা দেইনাই, উইকে একবার হয়তো দিতাম খুবই অল্প পরিমাণ, শুরু করেছি ৮-৯মাসে। এভাবে করে আস্তে আস্তে পুরো ম্যাশড থেকে সিদ্ধ করে নরম কিন্তু আস্ত খাবার দেয়া শুরু করি। এই প্রসেসটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে বাচ্চা মাড়ি দিয়ে চাবানো শিখে। এতে করে তার দাঁত সময়মতো গজানোর সম্ভাবনাও বাড়ে।

আজ এটুকুই। পড়বার জন্য ধন্যবাদ আর আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না।

 

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

বাচ্চার ডায়রিয়া ও কন্সটিপেশন

আলহামদুলিল্লাহ্‌, দেড় বছরে নো ডায়রিয়া নো কন্সটিপেশন। তবে আমি সেগুলোর জন্য সচেতনভাবে কিছু কাজ করে গিয়েছি/যাচ্ছি। সেটাই আজ লিখব।
১. বাচ্চাকে রোটা ভাইরাসের টিকা দিতে পারেন। আমি দেইনি, কারণ আমার বেবির যখন রোটার টিকা দেয়ার বয়স ছিল, তখন দেশে রোটাভাইরাসের টিকা স্টক আউট হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তিতে যখন রিস্টক হয়, অনেক বেশি দাম ছিল। তাই ইচ্ছা থাকলেও দেয়া হয়নি।
২. ফীডার বোতল জমিয়ে না রেখে সাথে সাথে ধুয়ে ফেলেছি। সাথে সাথে ধোয়া না গেলে কডমোর বোতল ক্লিনজার দিয়ে ভিজিয়ে রেখেছি (যেভাবে আমরা কাপড় ভিজিয়ে রাখি)। শেষ ধোয়া খাবার পানি দিয়ে দিতাম। সব কিছু ডীপ ক্লিন করা খুব জরুরী। মাসে ২/১ দিন গরম পানিতে সিদ্ধ করেছি বোতল এবং এক্সেসরিজ। আমি কোন স্টেরিলাইজার কিনিনি (সব সময় বাজেট এ চলার চেষ্টা করেছি)। দৈনিক স্টেরিলাইজ করার প্রয়োজন নেই, তবে সব কিছুই একটা বড় ঢাকনাওয়ালা বক্স এর ভিতরে রাখতাম যাতে ধুলা না পড়ে, মাছি না বসে। কডমোর এই ক্লিনজারটা একটা লাইফ সেভার। এস্টেরিয়াতে এখন স্টক এ এনেছি নিজে উপকার পেয়েছি বলে।
https://asteriabd.com/…/kodomo-bottle-accessories…/
৩. পাশাপাশি একটা ব্যাপার মেনশন না করলেই নয়, সেটা হল পানি। আমাদের এলাকায় বছরের কিছু সময় পানি দুর্গন্ধ যুক্ত এবং সবুজ রঙ এর আসে। এই কারণে আমি ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির পাশের এরিয়া থেকে ডীপ টিউবয়েল এর পানি কার্ড করে কালেক্ট করি। ওই পানিটা একদম ফ্রেশ, তবু ফিল্টার করে ব্যবহার করি। অনেকের কমপ্লেইন দেখেছি পানির কারনে বাচ্চার বারবার পেটে অসুখ হয়।
৪. বাচ্চা কোন কিছু মুখে দেয়ার বয়স হলেই সব কিছু কডমোর ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে দিয়েছি। ছবির খেলনাটাও ধুয়ে দিয়েছি, যেহেতু সে মুখে দেয়।
৫. বাচ্চা যদি শুধু বুকের দুধ খায়, তবে ৬মাসের আগে বাচ্চা অনেক সময় ৭দিনে একবার পটি করে, এটা নরমাল। এতে প্যানিক করার কিছু নেই। বিশেষত ২মাস বয়সে বাচ্চাদের বাউয়েল খুব ইররেগুলার হয়। আর যদি ফর্মুলা খায়, তবে খেয়াল করে দেখবেন পার্টিকুলার ফর্মুলাতে তার কন্সটিপেশন হচ্ছে কিনা। সেক্ষেত্রে ফর্মুলা চেইঞ্জ করে দেখতে পারেন। তবু কন্সটিপেশন এর জন্য ঘরে বাচ্চাদের গ্লিসারিন সাপোজিটরি ডীপ ফ্রিজ এ রাখতে পারেন, যদি দেখেন বাচ্চা পটি করার চেষ্টা করেও পারছেনা এবং কষ্ট পাচ্ছে, তখন গ্লিসারিন সাপোজিটরি দিতে পারেন। ( এটা ওভার দ্যা কাউন্টার ড্রাগ, দিতে হলে ক্ষতি নেই)

৬. সলিড শুরু করার পর কিছু জিনিস আমি পার্টিকুলারলি মাথায় রেখেছি।

  • ভাতের চাইতে ওটস এ আয়রনের পরিমান বেশি এবং পেট নরম রাখে।
  • পোলাও চাল কন্সটিপেশন করে তাই আমি পোলাও চাল পারত পক্ষে দেইনাই।
  • আমাদের ট্যান্ডেন্সি হল বাচ্চাকে ৩/৪পদের ডাল, কয়েক পদের সবজি মিলিয়ে পোলাও চাল দিয়ে খিচুড়ি দেয়া। মুগ ডাল ৭ মাসে, মসুর ডাল ১০ মাসে দেয়ার নিয়ম। মাল্টিপল ডাল এ বাচ্চার গ্যাস/কন্সটিপেশন হয়।
  • সলিড শুরু করার সাথে সাথেই চেষ্টা করেছি শাক দেয়ার। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে ৩-৪ দিন শাক একটু হলেও দিয়েছি।
  • ফলের রস দেইনাই। চামড়া সহ/ আশ সহ ফল দিয়েছি। খেজুর সিদ্ধ করে দিয়েছি। ফলের আশ/খোশা বাচ্চার পটি নরম রাখতে সাহায্য করে।
আজ আপাতত এটুকুই। কারো জিজ্ঞাস্য থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। নেক্সট কি নিয়ে লিখব, সেটার ও আইডিয়া দিতে পারেন। ধন্যবাদ।

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

বাচ্চার সর্দিঃ কি করি?

বাচ্চা জন্মের পর থেকে ২বছর পর্যন্ত কয়েক দফায় ঠান্ডা সর্দি লাগতে পারে। একেতো তখন বাচ্চার ইমিউন সিস্টেম তৈরী হয় আমাদের আশেপাশের কমন ভাইরাসের জন্য, পাশাপাশি প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব ও একটা কারণ হতে পারে। সাধারন সর্দি ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে নিজেই ভাল হয়ে যায়, প্রয়োজন শুধু অল্প কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলা। বিপদজনক কোন লক্ষণ (নিচে উল্লেখ করে দিব) না থাকলে, সাধারণ ঠান্ডা সর্দির জন্য বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া কিংবা কোন এন্টিবায়োটিক খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই।
সর্দিজনিত কারণে বাচ্চার নাক বন্ধ থাকলে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় আর বাচ্চার দুধ খেতেও সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে যিনি বাচ্চার দেখভাল করেন, তাঁর প্রধান দায়িত্ব হল শ্বাস প্রশ্বাস এর রাস্তা যতটা সম্ভব ক্লিন রাখা। এর জন্য অত্যন্ত জরুরী হল ন্যাজাল এসপিরেটর। নরসল ন্যাজাল স্প্রে (ওটিসি আইটেম, এটা কিনতে প্রেসক্রিপশন লাগেনা, নরমাল স্যালাইন সল্যুশন যার কোন সাইড ইফেক্ট নেই) এক বা দুই ফোটা নাকে দিলে জমে থাকা সর্দি পাতলা হবে। এরপর বাচ্চার নাকে ন্যাজাল এসপিরেটর লাগিয়ে টান দিলে নাক থেকে সকল সর্দি বেরিয়ে আসবে। বিস্তারিত পাবেন ভিডিও তে। https://youtu.be/VlXU5pZcNEY
ছোট বাচ্চার জন্য ন্যাজাল এসপিরেটর একটা অত্যন্ত অত্যন্ত জরুরী আইটেম।নিজেও কিনুন বাসার বাচ্চাদের জন্য, আশে পাশের বাচ্চাদের জন্য ও গিফট করুন ❤
https://asteriabd.com/product/kaili-baby-nasal-aspirator/
এছাড়া বাচ্চাকে সবসময় কুসুম গরম পানিতে গোসল দেয়া, শীত কালে হালকা গরম ওলিভ ওয়েল বুকে পিঠে, হাত পায়ের তালুতে মালিশ করলে বাচ্চা আরাম পাবে। আমাদের দেশে খুব প্রচলিত পন্থা হল সরিষার তেল এ রসুন ভেজে তেল ম্যাসাজ করা। এটা আপনি ওলিভ ওয়েল / আমন্ড ওয়েল এ রসুন দিয়ে করতে পারেন। বাচ্চার নাজুক ত্বক এর জন্য সরিষার তেল ক্ষতিকারক।
যেসব বিপদজনক লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই হাসপাতালে যাবেন-
১. বাচ্চার শ্বাস প্রশ্বাস ১মিনিটে ৬০ বারের বেশি
২. শ্বাসের সময় বুকে গর্ত হওয়া এবং জোরে জোরে শব্দ হলে
৩. বাচ্চার ঘুম এবং খাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে।
আশা করি এই লেখা পড়ার পর আর কেউ বাচ্চার সাধারন ঠান্ডা সর্দি নাক বন্ধ অবস্থায় ভয় পাবেন না এবং অকারণ এন্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। সঠিক ভাবে নাক পরিস্কার করে দিন আর ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। আর হাতের কাছে ডাক্তারের পরামর্শের জন্য আমাদের অনলাইন কনসাল্টেশন তো আছেই!

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

ডেলিভারীর আগে ও পরে স্তনের যত্ন

আপনি যদি এখন প্রেগন্যান্ট হয়ে থাকেন অথবা মাত্রই নতুন বাবুর জন্ম দিয়েছেন তবে প্রথমেই আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানবেন। প্রেগন্যান্সির একদম শুরু থেকেই ধীরে ধীরে হবু মায়ের স্তনে বিরাট পরিবর্তন আসতে শুরু করে যেটা সম্পুর্নই স্বাভাবিক এবং হরমোনাল। ডেলিভারীর আগে স্তনের তেমন বিশেষ কোন যত্ন নিতে হয়না। নিয়মিত গোসল করলেই স্বাভাবিক ভাবে স্তন পরিস্কার থাকে। তবে থার্ড ট্রাইমেস্টার এ স্তন এ অতিরিক্ত সাবান ঘষা, স্তনের বোটায় জমে থাকা মরা চামড়া বা সাদা আস্তরন সরানোর চেষ্টা না করাই উচিত কারণ এতে করে অসময়ে ডেলিভারীর ব্যাথা শুরু হয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক পানি দিয়ে পরিস্কার করা, কারো যদি অলরেডি বুকের দুধ এসে থাকে সেটা নিপল এর আশেপাশে একটু লাগিয়ে রাখলেও ময়েশ্চারাইজড থাকে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় একটা নিপল ক্রিম ব্যবহার করা অন্তত দিনে ২বার। এতে করে নিপল ময়েশ্চারাইজড থাকে এবং ডেলিভারীর আগে অথবা পরে নিপল ক্র্যাক এর সম্ভাবনা কমে।

ডেলিভারীর পরে স্তনের যত্ন অনেক অনেক জরুরী। বিশেষত যদি প্রথমবার মা হয়ে থাকেন এবং বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিকল্পনা করে থাকেন তবে হঠাৎ করে বাচ্চার এত ঘন ঘন ফিডিং এ প্রায় ১০০ ভাগ মায়েদের ই নিপল ক্র্যাক হয়। এটা যে কি পরিমাণ পেইনফুল শুধু যার হয়েছে তারপক্ষেই বুঝা সম্ভব। নিপলের চামড়া উঠে লালচে দগদগে ঘা হয়ে থাকে এবং বাচ্চাকে খাওয়ানোর অবস্থা থাকেনা এতটাই পেইনফুল হয়। তাই ডেলিভারীর আগে থেকেই এই ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং অবশ্যই নিপল ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। প্রতিবার ফিডিং এর পর দুই নিপল এ ক্রিম লাগিয়ে রাখতে হবে এবং পরবর্তি ফিডিং এর আগে টিস্যু দিয়ে মুছে ফেললেই বাচ্চাকে খাওয়ানো যাবে। তবে বেশ কিছু নিপল ক্রিম আছে যেগুলো সম্পুর্ন অর্গানিক এবং সেগুলো বাচ্চাকে খাওয়ানোর সময় ও মুছে নেয়ার প্রয়োজন হয়না। দুই প্রকার নিপল ক্রিম ই বর্তমানে এসটেরিয়াতে এভেইলএবল আছে।

নিপল ক্রিম সাইজ এ ছোট হয়, প্রয়োজন ও পড়ে খুব অল্প পরিমানে কিন্তু একটা নিপল ক্রিম একটা লাইফ সেভার আর মাল্টিপারপাজ এ ইউজ করা যায়। নিপল ক্রিম ঠোঁট ও ময়েশ্চারাইজ করে আর বাচ্চার ডায়াপার ক্রিম হিসেবেও ব্যবহার উপোযোগী। তাই এর পিছনে ইনভেস্ট করার আগে চিন্তার কোন কারণ ই নেই।

হয়তো ভেবে থাকবেন যে আমার বাবুর ১মাস হয়ে গিয়েছে, আমার ও ক্র্যাকড নিপল হিল হয়ে গিয়েছে, আর কি নিপল ক্রিমের প্রয়োজন আছে? দুঃখজনক হলেও সত্য, আছে। বাচ্চার যখন দাঁত উঠে, তখন ও কামড় এ নিপল ক্র্যাক হয়। তাই নিপল ক্রিম এর উপকারিতা একেবারেই শেষ বলা যাচ্ছেনা।

ব্রেস্ট ফিডিং মায়েদের আরেকটা খুব খুব কমন সমস্যা হল ব্রেস্ট এনগর্জমেন্ট থেকে ম্যাস্টাইটিস। বুকে দুধ জমে গিয়ে ইনফেকশন হয়ে যাওয়া, প্রচন্ড ব্যাথা সাথে মায়ের জ্বর। প্লিজ প্লিজ এই অবস্থায় যেন না পড়তে হয় তার সমাধান খুব সহজ কিন্তু কেউ অবহেলায় এই কঠিন সিচুয়েশন এ নিজেকে নিয়ে দাঁড় করাবেন না। এতে নিজের ও কষ্ট, বাচ্চার ও কষ্ট হয়। নিয়ম হল বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় হাত দিয়ে মাঝে মাঝেই স্তনে হালকা করে ম্যাসাজ করা যেন কোন পাশে দুধ জমে না থাকে। খাওয়ানোর আগে সম্ভব হলে কুসুম গরম পানিতে ছোট রুমাল ভিজিয়ে স্তনে সেঁক দেয়া, এতে করে সহজেই দুধ নামবে। আর গোসলের সময় অল্প কিছুক্ষন কুসুম গরম পানি স্তনের উপর ঢালা। এতে করে কোন অংশে চাকা হয়ে দুধ জমে থাকলে সেটা লিকুইড হবে।

খুব খুব ছোট এবং অল্প সময়ের যত্ন কিন্তু অবহেলায় কষ্ট পাবেন অনেক বেশি। লেখাটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আর কেমন লাগল পড়ে, কমেন্ট এ অবশ্যই জানাবেন। ভাল থাকবেন।

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

আমার বাচ্চা খায়নাঃ পর্ব ১

জানি সবাই এই পর্বের জন্য আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন। বেশ লম্বা সিরিজ এটা, অনেক কিছুই লিখতে হবে। পাশাপাশি আপনাদের প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে লেখা আরো বাড়াবো। পড়ে জানাবেন কেমন লাগল আর কি কি বিষয় লিখতে হবে।

তাবত দুনিয়ার এমন কোন মা, খালা, নানী, দাদী নাই যারা এই কমপ্লেইন করেনা যে আমার বা আমাদের বাবু খায়না। এমন কোন ডাক্তার নেই যে এই কমপ্লেইন শুনেনাই। আমার হাজব্যান্ড কে যখন কেউ ফোন দিয়ে বলে, বাচ্চা খায়না, ইদানিং সে বলে, আমার বাচ্চা তো খায়। আসলেই কি বাচ্চা খায়না নাকি আপনার মন মত খায়না?

আজকে বাচ্চার খাওয়ার জন্য কি কি প্রোডাক্ট কিনেছি আগে সেটা নিয়ে আলাপ করি। বাচ্চার একটা ফিডিং চেয়ার খুব খুব ইম্পর্ট্যান্ট। অনলাইন শপ, গুলশান ডিসিসি, যমুনা ফিউচার পার্ক, কিডস এন্ড মমস যাতীয় দোকানে ফিডিং চেয়ার পাবেন। কিনতে গেলে বেশি দামের টার দিকেই চোখ পড়ে, লোভ লাগে কিন্তু বাচ্চার জন্য আসলে সস্তা চেয়ার টাই এনাফ। তবে আমি পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স এ যেটা দেখলাম, চাকা ছাড়া চেয়ার সেইফ। টেবিলটা আলাদা করা গেলে ধুতে সুবিধা। ৪-৫মাস বয়স থেকেই বাচ্চাকে অন্যরা খাবার সময় টেবিলের কাছে, সামনে রাখলে সে খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায় আর বুঝে যে টেবিলে বসে খেতে হয়। পরবর্তিতে বসতে শিখলেই চেয়ার এ নিয়ে সবার খাওয়ার সময় পাশে বসিয়ে রাখলে সে অভ্যস্ত হয়। অনেকে হাতের উপর শুইয়ে বাচ্চাকে খাওয়ান, এটা খুব রিস্কি। খাবার শ্বাসনালীতে গিয়ে বাচ্চার নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে চোকিং (গলায় খাবার আটকে দম বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর্যন্ত হতে পারে। আবার বাচ্চা যখন হামাগুড়ি/হাঁটা শিখে তখন তার পিছে পিছে দৌড়াতে হয়না। একটা ভাল অভ্যাস এর জন্য ফিডিং চেয়ার জরুরী।

বাচ্চার জন্য সাকশন বোল এর কোন প্রয়োজন নেই। প্লাস্টিক এর বাটি/চামচ এর দরকার নেই। ঘরের আইটেম ই ইউজ করা যায়। শুধু একটা ছোট সিলিকন চামচ কিনে নিতে হবে। এতে করে বাচ্চা ব্যাথা পাবেনা। খাবার প্লাস্টিক এর আইটেম এ গরম না করে কাচের পাত্রে গরম করা ভাল। নন স্টিক ফ্রাই প্যান ইউজ না করে স্টিল এর ফ্রাই প্যান/কড়াই ব্যবহার করা সেইফ। একটা সিপি কাপ কিনে নিলে ভাল। ১২মাস থেকে পাইপ ওয়ালা সিপি কাপ দিলে বাচ্চা অনায়াসে টেনে খেতে পারে। এছাড়া খুব ছোট গ্লাস/কাপ দিয়েও অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে খাওয়া প্র্যাকটিস করাতে পারেন। বাজেট এ না হলে স্যুপের চামচ দিয়েই অল্প অল্প করে পানি খাওয়ানো যায়।

আমি আমার বাচ্চাকে এক দিনের জন্য ও খাবার ব্লেন্ড করে খাওয়াই নাই। অনেকে শুরুতেই হ্যান্ড ব্লেন্ডার কিনেন, আমি কোন প্রয়োজন দেখিনাই। বাচ্চাকে যতদিন নরম খাবার খাওয়াবেন, বাচ্চা ততদিন চাবানো শিখবেনা, গিলে খাবে, দাঁত আসতে দেরী হতে পারে এবং স্বাভাবিক খাবার খেতে তত দেরী হবে। আমি কিভাবে ধীরে ধীরে বাচ্চাকে নরমাল খাবারে অভ্যস্ত করেছি, সেটা ডিটেইলস এ লিখব পরের পর্বে।

বাচ্চার ওজন যদি ভাল থাকে তাহলে বাচ্চাকে ৬মাস কমপ্লিট করা পর্যন্ত বুকের দুধ ই খাওয়ান। তবে ৪মাসের পর থেকে বাচ্চার আয়রন স্টোরেজ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে তাই ৫মাসের পর থেকে চাইলে আয়রন রিচ আইটেম এড করতে পারেন। যেমন খেজুর, ওটস, বীট রুট। এগুলো সবই ধীরে ধীরে খুবই অল্প পরিমানে, টানা তিনদিন দিয়ে এলার্জি চেক করে দিতে হবে। ৬মাস এ পড়লেই ৩-৪ আইটেম মিলিয়ে আমাদের দেশের মা খালা নানীরা খিচুড়ি গিলাইতে থাকেন বাচ্চাকে। খুব খুব খুব ভুল একটা কাজ। ৬মাসের বাচ্চার পেটে এগুলা তেমন কিছুই হজম হয়না। ১ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চার আসল পুষ্টি আসে দুধ থেকে (মায়ের দুধ বা ফর্মুলা। গরুর দুধ না)। ১বছরের আগ পর্যন্ত বাচ্চাকে বাইরের খাবার দেয়ার প্রধান কারন হল এলার্জি চেক করা, বাইরের খাবারের স্বাদ এর সাথে তাকে পরিচিত করা আর খাবারের একটা রুটিন তৈরী করা। আশা করবেন না যে এক বছরের আগে বাচ্চা দিনে ২-৩বাটি খিচুড়ি কিংবা ১ বাটি সুজি সাবাড় করে দিবে। মায়েদের এই অযৌক্তিক আশার সাথে মিলেনা বলেই মায়েরা কমপ্লেইন করে, আমার বাচ্চা কিছু খায়না।

ওহ আরেকটা জীবন নাশকারি অভ্যাস হল বাচ্চাকে ঘুমের মধ্যে খাওয়ানো। এটা রীতিমত গর্হিত অপরাধ এর মধ্যে পড়ে। অনেকেই হয়ত এই লিখা পড়তে পড়তে বলবেন, আজীবন সবাই এভাবেই খেয়ে আসছে, কিছুই হয়নাই। এখন আবার এসব কি নতুন কথাবার্তারে বাবা? তবে এখানে একটা ব্যাপার আছে। ঘরে ঘরে প্রেশার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, ক্যান্সার আর অতিরিক্ত ওজনের কারনে হৃদরোগ সহ এরকম হাজারো রোগ এর ছড়াছড়ি সব দিকে। তাহলে আসলেই কি যুগ যুগ ধরে চলে আসা খাবারের নিয়মটা ঠিক ছিল? ভাবুন!

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee

বাচ্চার স্পীচ থেরাপি

১. ঢাকা শহরে স্পীচ থেরাপি কোথায় করায়?

২. আমার ১৬ মাসের বাচ্চা এখনো মা বাবা বলেনা, এটাকি নরমাল?

৩. বাচ্চাকে কত বয়স থেকে স্পীচ থেরাপি দিতে হবে?

৪. আপনাদের কার বাচ্চা কত বয়সে কথা বলেছে?

এই প্রশ্নগুলো ফেইসবুক এ বিভিন্ন মায়েদের গ্রুপ এ খুব কমন প্রশ্ন। অন্যদিকে আমার বাচ্চা ১২মাসে ইন্ডিপেন্ডটলি ২৮টা মিনিংফুল শব্দ বলে আর আমরা বললে আরো কিছু রিপিট করে। আজ তাহলে আমি কি কি করেছি সেই বিষয়ে আলাপ করছি আর পাশাপাশি আপনাদের কখন এক্সপার্টহেল্প নিতে হবে, সেটাও পয়েন্ট আউট করে দিব।

একজন মানুষের জন্মের সাথেই সাথেই তার ভাষা শিক্ষা শুরু হয়। তবে একজন বাচ্চার ভাষা শিক্ষার একটা প্রথম পয়েন্ট হল শুনতে পাওয়া। তাই নিউবর্ন বেবি আপনার আওয়াজ এ বা যেকোন শব্দেই সেদিকে চোখ ঘুরাচ্ছে কিনা, মাথা ঘুরাচ্ছে কিনা শুরু থেকেই এগুলা খেয়াল রাখবেন। আমাদের দেশে যেহেতু রুটিন চেকাপ হিসেবে কানের পরীক্ষা করা হয়না, তাই নিজেদের সন্দেহ হলে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।

বাচ্চা যতক্ষন জাগনা থাকে তার সাথে অল্প অল্প আলাপ করা দরকার। বিশেষত ৩ মাস বয়স থেকে আমি আমার বাচ্চার সাথে সারাক্ষন কথা বলতাম। বাসায় একা থাকতাম, পাপা কোথায়? নান কোথায়? এসব বলতাম। দুইটা দিকে আমি খুব সুবিধা পেয়েছি, ১. আমি খুব বাচাল, ম্যাক্সিমাম টাইম ই বাবুর সাথে বকবক করতাম (পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের কারনে অনেক সময় কিছুই বলতে মন চাইতোনা) ২. নানা নানী সবসময় সাথে থাকায় তারা খেলাচ্ছলে ওর সাথে সব সময়ই কথা বলত। স্বাভাবিকভাবেই বাচ্চা যত বেশি কথা শুনবে তত বেশি কথা শিখবে। অনেকেই ভাবতে পারেন, এত কি বলব অবুঝ বাচ্চার সাথে? এক্ষেত্রে সহজ টিপস হল, যা করছেন তাই বলবেন। যেমন- চল আমরা এখন হাপ্পু পরব। এটা কি? হাপ্পু! আমরা এখন গোসল করছি! বোল টা কি কালার? লাল!  এভাবে ডেসক্রাইব করলে আর কথা খুজে না পাওয়ার কোন কারণ নেই।

বাচ্চার সাথে যথা সম্ভব বেবি টক না করাই ভাল। যদিও আমি মাম এবং হাপ্পু শিখিয়েছি, তবে চেষ্টা করেছি যতটুকু মিনিমাম রাখা যায় বিকৃত শব্দ আর বেবি টক। এতে করে বাচ্চা ইন্সট্রাকশন খুব সহজে বুঝতে শিখে। আমার মেয়ে প্রচুর ভার্বাল ইন্সট্রাকশন এখন বুঝে কারণ আমরা তার সাথে এগুলা বারেবারে রিপিট করেছি। আর ৩মাসের পর থেকেই কোলে নিয়ে ঘরেই ঘুরতে ঘুরতে টিভি, ফ্রিজ, ছবি, ফ্যান, বাথরুম কোনটা কি এগুলো দেখাতাম টাইম পাস হিসেবে। এখন সে সব গুলোই পয়েন্ট আউট করতে পারে।

বাচ্চাকে কোন শব্দ বলা শিখাতে হলে রিপিটেশন এর কোন এলটারনেটিভ নাই। যখন বয়স ৭/৮ মাস ছিল তখন একটা শব্দ মুখ দিয়ে বের করতে ৭ দিন রিপিট করেছি। শব্দ ছিল  “ওয়াও”। এখন ১ দিন ও রিপিট করতে হয়না, আধা বেলাতেই শিখে যায়। যেমন লাল কোনটা এবং শব্দটা যে লাল, ঘরে যা ছিল লাল দেখিয়ে দেখিয়ে বারবার বলতাম “লাল”। এখন সেও লাল দেখলে নিজেই বলে।

১২ মাসের বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে বাবা/মা/দাদা বলে। ১৮-২৩ মাসের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ৫০টা শব্দ বলে। ২ বছর পার হয়ে যাবার পর ও যদি বাচ্চা ৫০টা শব্দের কাছাকাছি না বলে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন বা স্পিচ থেরাপি সেন্টার এ কথা বলুন। আমার এই পোষ্টের উদ্দেশ্য আপনাকে প্যানিক এটাক দেয়া বা আপনার বাচ্চার উপরে প্রেশার দেয়া নয়। কিভাবে আগে থেকে স্টেপস নিলে বেটার রেজাল্ট পাওয়া যায় আর কখন এলার্ট হতে হবে, সেটা বুঝানো। আজকাল আমরা সবাই ওয়ার্কিং আর মাইক্রো ফ্যামিলি। সেক্ষেত্রে বাচ্চার বাবা মা কেই এগুলো শুরু থেকে খেয়াল রেখে প্র্যাকটিস করতে হবে। বাচ্চাকে ১ বছরের আগে কোন ভাবেই স্ক্রিন দিতে নেই, ১০মাসের পর দিলেও হায়েস্ট ১০ মিনিট এবং মোবাইল বা ট্যাব না দিয়ে টিভি দেয়া মন্দের ভাল। বাচ্চা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে শিখে অনেক কিছুই কিন্তু ডিভাইস তার জন্য অপেক্ষা করেনা, চলতেই থাকে। এসব বাচ্চা এই কারণে রিপ্লাই দিতে, রেজপন্স করতে শিখেনা, তাই বাচ্চাকে ডিভাইস থেকে যতদূর সম্ভব দূরে রাখবেন।

আপনার জানা মতে যদি কোন টিপস থাকে, প্লিজ কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

লিখেছেন-

Miti-apron
MBBS, MSc, PGT (Dermatology)

Dr Ishrat Nazneen Metee